"মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য"- এই শ্লোগানে অনুপ্রানিত হয়ে আমাদের দেশকে দারিদ্র মুক্ত ও শিক্ষার হার বাড়ানোর উদ্দেশ্যে আমরা ক'জন তরুণ *অন্বেষণ* নামক সংগঠনটির ২০১৩ সালের ১৬ই ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করি । কেউ একজন বলেছিলেন-" মানুষ একা যা দেখে তা স্বপ্ন আর সবাই মিলে একত্রে যা দেখে তায়ই হলো বাস্তবতা ।" মনের মাঝে লালন করা সেই স্বপ্নই আজ বাস্তবে রূপ নিলো যার নাম অন্বেষণ । মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে আমাদের অন্বেষণ । আসুন অন্বেষণ সম্পর্কে সংক্ষিপ্তে জেনে নেই কিছু ।
অন্বেষণ একটি অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন। এটি প্রথাগত কোন এনজিও নয়। কোন প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবিশেষের দাতব্য সংস্থাও নয়। অন্বেষণ একদল তরুনের স্বপ্নের ফসল। মুক্তিযুদ্ধ করে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীন হওয়া এই দেশ আজও নানা সমস্যায় জর্জরিত। এই সকল সমস্যা গুলো এক দিনে দূর হবার নয়। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।আবার সকল দায় সরকারের উপর চাপিয়ে বসে থাকাটা দায় এড়িয়ে যাওয়ার অজুহাত মাত্র। সমাজের তুলনামূলক সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠি বিশেষ করে তরুন প্রজন্ম যদি এগিয়ে আসে,সমস্যা সমধানের দায়িত্ব তুলে নেয় একমাত্র তাহলেই এই সমস্যা গুলো কাটিয়ে উঠে সত্যিকার উন্নত ও আলোকিত সোনার বাংলায় পরিণত হতে পারি আমরা। হয়তো কারও একার পক্ষে কিংবা কোন একটি সংগঠনের পক্ষে কোন একটি সমস্যা দূর করে দেয়া সম্ভব না কিন্তু এই চর্চাটা যদি বজায় থাকে তাহলে একটু একটু করে হলেও অবস্থার পরিবর্তন আসবেই। আর বিচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করার থেকে সংঘবদ্ধ হয়ে কাজ করলে অনেক সুচারু ভাবে কাজ গুলো করা সম্ভব হয়। আর সেই উদ্দেশ্যেই - দেশ ও সমাজের প্রতি কর্তব্যবোধ থেকে এসকল সমস্যা নিয়ে কাজ করার জন্য অন্বেষণের জন্ম। (সংযোজন-মৃত্তিকা)
অন্বেষণ শব্দের অর্থ "সন্ধান" । অন্য ,বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা - একটি মানুষকে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য এই পাঁচটি মৌলিক চাহিদার প্রয়োজন । কিন্তু আমাদের সমাজের এমন অনেক মানুষই আছে যাদের সঠিক ভাবে চাহিদা গুলো পূরণ হচ্ছে না । কেউ খেতে পায় না , কেউ ভালো পোশাক পরিধান করতে পারে না , কারো মাথা গুঁজার মত বাস্তস্থান হয় না , আর শিক্ষা সেটার কথা নায়ই বললাম চিকিৎসার কথা তো কল্পনাই করা যায় না । এমন সব মানুষের "সন্ধান" করে তাদের চাহিদাগুলো মেটানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করাই হলো আমাদের লক্ষ্য । তাই আমরা নিজেদেরকে সকলের কাছে পরিচয় দিচ্ছি "অন্বেষণ" নামে ।
হাজার সমস্যায় জর্জরিত আমাদের এই সমাজ । আমি আর আপনি চাইলেই এই সমস্যা গুলোর সমাধান একদিনে করে ফেলতে পারব না । অন্বেষণ মূলত কাজ করে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে । সমাজের একটা বিশাল অংশ যারা পথে ঘাটে স্টেশনে বস্তিতে থাকে তাদের কে আমরা 'ভবিষ্যৎ' হিসেবে কল্পনা করতে পারিনা কারণ তাদের নিজেদেরই কোন ভবিষ্যৎ নেই। আমরা বিশ্বাস করি প্রতিটা শিশুর সকল বিষয়ে সমান অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার কারণে আমাদের সমস্যার কোন অন্ত নেই।তাই রাষ্ট্র সকল শিশুর মৌলিক অধিকার টুকুও নিশ্চিত করতে পারেনা।আমরা আমাদের ক্ষুদ্র সামর্থ্য নিয়ে এসকল শিশুদের পাশে দাড়াতে চাই।তাদের অবস্থার পরিবর্তনের একমাত্র অস্ত্র- শিক্ষা,তাদের মধ্যে পৌছে দিতে চাই,তাদের স্বাস্থ্য সচেতন করতে চাই যেন তারা অকালেই হারিয়ে না যায়।তাদের কে একটা সুন্দর ভবিষ্যত তৈরি করে দেয়ার ক্ষেত্রে আমরা আমাদের সাধ্য অনুযায়ি কাজ করে যেতে চাই।আমরা জানি আমাদের এই প্রচেষ্টা বিশাল সিন্ধু তে একটি ক্ষুদ্র বিন্দু মাত্র তবুও 'করে লাভ নেই' ভেবে কিছুই না করে বসে থাকার পক্ষপাতি আমরা নই। তাই শুরু থেকেই কুমিল্লা শহরের প্রাণ কেন্দ্র টাউনহল মাঠে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে "অন্বেষণ পাঠশালা"র মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে অন্বেষণ । এছাড়াও সমাজের বৃদ্ধা, প্রতিবন্ধী সহ পিছিয়ে পরা জনগষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে অন্বেষণ ।
  • সকল ছিন্নমূল পথশিশুকে প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করা।
  • প্রাথমিক শিক্ষার পর শিশুদের ভালো স্কুলে ভর্তি ও যাবতীয় খরচ বহন করা ।
  • দুই ঈদে সমাজের দারিদ্র্য মানুষকে ও ছিন্নমূল পথশিশুদের নতুন জামা এবং ঈদ সামগ্রী প্রদান করা ।
  • এতিম শিশুদেরও দুই ঈদে নতুন জামা দেওয়া , এতিমখানার মেধামী শিশুদের পড়াশুনায় আগ্রহী করে তুলার জন্য পুরষ্কৃত করা ।
  • সুবিধা বঞ্চিত শিশু ও ভিক্ষুকদের নিয়ে পবিত্র মাহে রমজানে ইফতার করা ।
  • শীতকালে বিভিন্ন অঞ্চলের শীতার্তদের তাদের শীতবস্র ও কম্বল প্রদান করা।(কুমিল্লা ও কুড়িগ্রাম)
  • স্বেচ্ছায় রক্ত দানে মানুষকে উদ্ধোমী করা , সংগঠনের সদস্যদের নিয়মিত রক্তদান এবং প্রয়োজনে ফ্রি ব্লাড গ্রুফিং করে দেওয়া।
  • গরীব শিক্ষার্থীদের স্কুল পোশাক তৈরি করে দেওয়া ।
  • গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় বই এবং শিক্ষা সামগ্রী কিনে দেওয়া ।
  • জীবনব্যাধী রোগে আক্রান্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজনীয় তহবীল সংগ্রহ করা ।
  • আমাদের সমাজের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার বিরূদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা ।
  • দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বৃক্ষরূপন । (নতুন উদ্দেশ্য )
সৃষ্টিকর্তার দোয়ায় এই পর্যন্ত আমরা মোট ১০ টির অধিক সফল ইভেন্ট শেষ করেছি । মানুষের খারাপ সময়ে পাশে দাঁড়াতে পেরেছি । কয়েকজন পথশিশুকে প্রাথমিক শিক্ষাদান শেষে স্কুল ভর্তি করাতে পেরেছি । ক্যান্সারে আক্রান্ত এক মা'কে বাঁচাতে "সেইভ এ মাদার" নামক একটি সফল ইভেন্টে থেকেছি । পেয়েছি অনেক মানুষের সাপোর্ট ,এই কাজে না আসলে বুজাই যেত না যে কত ভালো মনের মানুষ রয়েছে এই দেশে । প্রবাসী বাংলাদেশীদের খুব ভালো সহযোগীতা পেয়েছি আমরা। এছাড়াও আমরা রক্তদানে উদ্যামী করার লক্ষে তিনটি সফল ক্যাম্পেইন করেছি । সেক্ষেত্রে আমরা কয়েকটি বিশেষ সংগঠনের সাপোর্ট পেয়েছি (কল ফর ব্লাড ও সঞ্চারণ) । সবে তো শুরু ইচ্ছে আছে আপনাদের দোয়ায় ও সহযোগীতায় অনেক দূর যাওয়ার ।
  • অন্বেষণ পাঠশালাকে আরো ভালোভাবে চালানো এবং সব সময় সুবিধা বঞ্চিতদের নিয়ে কাজ করে যাওয়া ।
  • বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে কাজ করা ।
  • কয়েকজন অসহায় ব্যাক্তিকে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করা ।
  • এছাড়াও আরো অনেক ।